ইএমআইএস বাস্তবায়ন – গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ইন্টারনেট

ইএমআইএস বাস্তবায়ন – গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ইন্টারনেট

টাঙ্গাইল এবং হবিগঞ্জ জেলায় পাইলট বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ইএমআইএস-এর যাত্রা শুরু হয়। এ দুটি জেলার সফল বাস্তবায়নের ভিত্তিতে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ৫টি জেলায় ইএমআাইএস সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ঝিনাইদহ দ্বিতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়িত জেলাগুলোর একটি। আমরা এ ওয়েবসাইটের ব্লগ পাতায় ব্যবহারকারীদের মতামত ক্রমান্বয়ে তুলে ধরছি। এ পর্যায়ে মোঃ ফিরোজ আলী, পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক-এর সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হল। তিনি ঝিনাইদহ জেলার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে কর্মরত আছেন। তিনি সফটওয়ারের ব্যবহারযোগ্যতা, এ্যাপের সুবিধাদি ও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর আলোকপাত করেছেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন জনাব কাজী মোহাম্মদ ওবায়দুল হক।

প্রশ্ন:    ইএমআইএসএর বাস্তবায়নের কোন পর্যায় থেকে আপনি যুক্ত ছিলেন? ইএমআইএসএর শুরুটা কেমন ছিল?

উত্তর:    ঝিনাইদহ জেলায় ২০১৮ সালে ই-এমআই এস কার্যক্রম শুরু হয়। সেই সময় থেকেই আমি ই-এমআইএস এর সাথে জড়িত। প্রথম দিকে অবশ্য ইএমআইএস-এর ব্যাপারে কিছুটা ভয় ছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই ভয় একেবারেই কেটে যায়। এখন যতই কাজ করছি, ততই ভাল লাগছে। শুধু আমি নই, আমার কর্মীরাও ট্যাবলেট ব্যবহার করে কাজ করতে পেরে অত্যন্ত খুশি।

প্রশ্ন:    ইএমআইএসএর বাস্তবায়নের সময় আপনাদের সাথে প্রোগ্রামার বা বাস্তবায়ন টিমের সাথে কোন সংযোগ কি হয়েছিল? সংযোগের ফলে কোন সুবিধা হয়েছিল? পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের দায়িত্ব সম্পর্কে তাদের ধারণা কতটুকু ছিল

উত্তর:    ইএমআইএস-এর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রকার মিটিং,

ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রোগ্রামার বা বাস্তবায়নকারীদের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয়। প্রথমদিকে মাঠপর্যায়ে আমাদের প্রত্যেকটি উপজেলায় আইসিডিডিআর-বি থেকে একজন করে কর্মী ছিল। তাতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছিল। কাজ করতে গিয়ে কোন সমস্যায় পড়লে তাদের সরাসরি জানাতাম। মাঠ থেকে ফোনে যোগাযোগ করতাম। তারা খুব আন্তরিকতার সাথে আমাদের  সাহায্য করতেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত ধারণা ছিল।

প্রশ্ন:    এ্যাপ পরিচালনায় কোন সমস্যা হলে কি করেছেন? সমস্যা সমাধান কি পেয়েছিলেন?

উত্তর:    এ্যাপ পরিচালনায় কোন সমস্যা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে জানিয়েছি। এছাড়া ফেসবুকে আমাদের গ্রুপ আছে, যেখানে আমরা যে কোন সমস্যা জানিয়ে থাকি এবং সমাধান পেয়ে থাকি।  কোন সমস্যা জানানোর পর বাস্তবায়নকারীগণ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান দিয়েছেন। যেমন, বর্তমানে ঝিনাইদহের দায়িত্বে আছে মনির ভূঁইয়া। তাকে কোন সমস্যার কথা বললেই উনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমাধান করে দেন।

এই সিস্টেমের সুবিধার কথা বলে শেষ করা যাবে না। এক মিনিটেই বের করতে পারি, এলাকায় দম্পতির সংখ্যা কত? কোন দম্পতি কোন মেথডে আছে। যে কোন তথ্য শুধু ক্লিক করব আর সাথে সাথেই  তা হাজির। সত্যিকার অর্থে এই সিস্টেমের এত সুবিধা, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

প্রশ্ন:    এ্যাপ সম্পর্কে আপনারা কি কোন পরামর্শ দিয়েছিলেন? যদি দিয়ে থাকেন, সে পরামর্শগুলো কতটুকু গুরুত্বের সাথে গৃহীত হয়েছিল বলে আপনার মনে হয়?

উত্তর:    আমি বিভিন্ন সময়ে নানা রকম পরামর্শ দিয়েছিলাম। এবং তারা আমাদের পরামর্শ গ্রহণও করেছেন। যেমন, ইঞ্জেক্টবলের ক্ষেত্রে আগে নতুন/পুরাতন একটা সমস্যা ছিল। বাস্তবায়নকারীদের কাছে সেটি তুলে ধরেছি। নানা বিষয়ে সময়ে সময়ে কথা বলেছি। পরবর্তীতে তারা প্রয়ৈাজন অনুযায়ী সংশোধন করেছেন। এরূপ সমস্যা বর্তমানে নেই।

প্রশ্ন:    এ্যাপ ব্যবহারে আপনি কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? সময়ের সাথে সাথে এ্যাপের গুণগত মানে কোন পরিবর্তন এসেছে কি? তা কি ক্রমান্বয়ে উন্নত হয়েছে?

উত্তর:    প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, এ্যাপে কাজ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তবে সময়ের সাথে সাথে তা পরিবর্তন হয়েছে। সকলের কাছে এ্যাপ এখন গ্রহণযোগ্য। বলতে গেল, বিশেষ করে যাদের বয়স তুলনামূলক বেশি, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি কাজ করছে।

২০১৮ সালের তুলনায় বর্তমানে সফটওয়ার অনেক বেশি পরিণত। আগে ডাটা সিঙ্ক-এ ক্লিক করলে খালি ঘুরত, এখন তা হয় না। বলা যায়, ৯০% কার্যকর, বাকী ১০% আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।

প্রশ্ন:    কাগজের রেজিস্টারেতুলনায় এ্যাপ কতটুকু পরিবর্তন এসেছে? পরিবর্তনগুলো কি রকম? ভালো না মন্দ? সংক্ষেপে বলুন

উত্তর:    আমি আসলে কি সুবিধার কথা বলব আমি জানি না। এই সিস্টেমের সুবিধার কথা বলে শেষ করা যাবে না। এক মিনিটেই বের করতে পারি, এলাকায় দম্পতির সংখ্যা কত? কোন দম্পতি কোন মেথডে আছে। যে কোন তথ্য শুধু ক্লিক করব আর সাথে সাথেই  তা হাজির। সত্যিকার অর্থে এই সিস্টেমের এত সুবিধা, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।

প্রশ্ন:    অফলাইনে কাজ করতে কতটুকু স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন সব কাজ কি অফলাইনে করা যায়?

উত্তর:    সব কাজ অফলাইনে করা যায় না। সারাদিনের কাজের তথ্য নিরাপদ করার জন্য ডাটা সিঙ্ক দিতে হয়। যা অবশ্যই অনলাইনে করতে হয়। এছাড়া দৈনিক কাজের ভিত্তিতে এমআইএস ১ দেখতে চাইলেও ইন্টারনেট লাগে, অনলাইনে যেতে হয়।

বর্তমানে সব জায়গায় না হলেও, গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ইন্টারনেট । এখন সফটওয়ারের সমস্যা খুব একটা নেই, ইন্টারনেট ঠিক হয়ে গেলে আমাদের কাজ আরও সুন্দর ভাবে করতে পারব।

প্রশ্ন:    এখন কোন ধরনের কারিগরি সমস্যা আপনার কাছে প্রধান মনে হয়?

উত্তর:    বর্তমানে সব জায়গায় না হলেও, গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ইন্টারনেট । এখন সফটওয়ারের সমস্যা খুব একটা নেই, ইন্টারনেট ঠিক হয়ে গেলে আমাদের কাজ আরও সুন্দর ভাবে করতে পারব।

প্রশ্ন:    ইএমআইএস ইনোভেশন বা উদ্ভাবন কি কিছু ছিল? থাকলে, তাতে আপনাদের কাজ কি সমৃদ্ধ হয়েছে?

উত্তর:    ইএমআইএস-এ অনেক অভিনবত্ব আছে, যা আমাদের কাজকে নানাভাবে সমৃদ্ধ করেছে। যেমন,

ক)       আগে তিন বছর পর পর জনসংখ্যা নিবন্ধন করতে হত, কিন্তু ই-এমআইএস সিস্টেমে এক বার কারো তথ্য সংগ্রহ করলেই সারা জীবন আর করতে হয় না।

খ)       দম্পতির সেবার তথ্য (খাবার বড়ি প্রদানের তারিখ, বাড়ি ভিজিটের তারিখ) ইত্যাদি তথ্যাবলি এক জায়গা থেকে দেখা যাচ্ছে।

গ)       একজন গর্ভবতী মায়ের ক্ষেত্রে LMP দেবার পর কবে তার সম্ভাব্য প্রসব হতে পারে, সেটি সহজেই জানা যাচ্ছে।

ঘ)       গর্ভবতী কোন কোন তারিখে ৪টি এএনসি (ANC) সেবা পাবে, তাও সিস্টেম থেকে বলে দেয়।

ঙ)       সন্তান প্রসবের তারিখ দেবার পর মা-শিশুর প্রসব পরবর্তী সেবা (PNC) কখন দিতে হবে তাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যাচ্ছে।

চ)       এছাড়া, আগামী ৭ দিনে কোন কোন গর্ভবতী মায়ের প্রসব হতে পারে কিংবা কত জন গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসবের তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে, ইত্যাদি নানা বিষয় এক নজরে দেখা যায়।

প্রশ্ন:    ইএমআইএস আপনাদের চাহিদা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে? ভবিষ্যতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কি করা উচিত?

উত্তর:    ইএমআইএস আমাদের কাজকে জনগণের কাছে দৃশ্যমান করেছে, তাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এখন আমাদের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উপজেলার যে কোন অফিসার, বা জেলা পর্যায়ে উপপরিচালক, জেলা প্রশাসক এমন কি চাইলে মন্ত্রী, এমপিবৃন্দ আমরা মাঠ পর্যায়ে কি কাজ করছি, কি কি সেবা দিচ্ছি খুব সহজেই জানতে পারবেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ, এই ই-এমআইএস (eMIS) যেন সারা বাংলাদেশে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সম্প্রসারিত করা হয়। এতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সুনাম এবং বিশ্বাসযোগ্যতা আরো বাড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।

By |2021-03-21T08:00:27-06:00 Published on February 28, 2021| Updated on March 21, 2021|Uncategorized|0 Comments

Leave A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.