টাঙ্গাইলে ইএমআইএস এ্যাপগুলোর ব্যবহার শুরু হয় ২০১৫ সালে। জনসংখ্যা নিবন্ধনের জন্য তৈরি পপুলেশন রেজিস্ট্রেশন সিস্টেমকে (সংক্ষেপে পিআরএস) আমরা অন্য একটি পোস্টে ইআইএমএস পদ্ধতির ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছি। পিআরএস চালু হয় সবার আগে বাসাইল উপজেলায়। তারপর মির্জাপুর উপজেলায় পিআরএস চালু করা হয়। পিআরএসকে অনুসরণ করে পরে পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা খাতে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ই-রেজিস্টার চালু করা হয়েছে। ইএমআইএস-এর প্রসারের জন্য মির্জাপুরে ফেসবুককে ব্যবহার করা হয়েছে। মির্জাপুরে ফেসবুক ব্যবহারের অভিজ্ঞতার সম্পর্কে জানার জন্য আমরা জনাব মোঃ শহীদুল ইসলাম, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মির্জাপুরের কাছে কিছু প্রশ্ন রেখেছিলাম। একই সাথে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ কার্যক্রমে নতুন জেলাগুলোতে ফেসবুক ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। সে প্রশ্নগুলোর উত্তরে জনাব শহীদুল ইসলামের দেয়া উত্তরগুলো নিম্নে প্রকাশ করা হল। জনাব শহীদুল ইসলাম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০১ সালে বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা ) ক্যাডারে যোগদান করেন। তিনি ২০০৭ সাল থেকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মির্জাপুর পদে কর্মরত আছেন। তাকে করা প্রশ্নের পাশাপাশি উত্তরগুলো নিম্নে বর্ণণা করা হল।

বেশ কয়েকজন এফপিআই মির্জাপুরে নব নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাদেরকে আমি স্মার্টফোন ক্রয়ের জন্য উৎসাহিত করি। শুরুতে তাদের ফেসবুক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করি। ক্রমান্বয়ে তারা স্মার্টফোনে বিভিন্ন এ্যাপ ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠেন। এরপরে এফডব্লিউএ, এফডব্লিউভি, এসএসিএমও এবং ফার্মাসিস্টগণকে  উৎসাহিত করি। তারাও এতে উদ্বুদ্ধ হন। প্রথমে এফপিআইদের নিয়ে গ্রুপ তৈরী করি। পর্যায়ক্রমে সকলে গ্রুপে যোগদান করেন।

প্রশ্ন:     দয়া করে বলুন, আপনি কখন থেকে এবং কেন ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করেছেন?

উত্তর: ২০১৪ সালে আমি ফেসবুক ব্যবহার শুরু করি। দাপ্তরিক কাজে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ফেসবুক ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে বাড়ী পরিদর্শন পর্যন্ত লোকবল রয়েছে এবং প্রচুর কার্যক্রমও রয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রমে স্বীকৃতি কম। মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণে সঠিক বার্তা সকলের মাঝে একইভাবে পৌঁছানোর জন্য একটি প্লাটফরম গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হ’ল। তখন বেশ কয়েকজন এফপিআই মির্জাপুরে নব নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাদেরকে আমি স্মার্টফোন ক্রয়ের জন্য উৎসাহিত করি। শুরুতে তাদের ফেসবুক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করি। ক্রমান্বয়ে তারা স্মার্টফোনে বিভিন্ন এ্যাপ ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠেন। এরপরে এফডব্লিউএ, এফডব্লিউভি, এসএসিএমও এবং ফার্মাসিস্টগণকে  উৎসাহিত করি। তারাও এতে উদ্বুদ্ধ হন। প্রথমে এফপিআইদের নিয়ে গ্রুপ তৈরী করি। পর্যায়ক্রমে সকলে গ্রুপে যোগদান করেন।

প্রশ্ন:     ফেসবুক সম্পর্কে আপনার ধারণা কি, মানুষ কি কাজে ফেসবুক ব্যবহার করে? আপনি কি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন? প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে বা প্রতিমাসে কতক্ষণ সময় আপনি ফেসবুকে ব্যয় করেন।

উত্তর: পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ ফেসবুক। ব্যবহার অত্যন্ত সহজ। একটি ছবি নিমিষেই আপলোড করা সম্ভব। বাংলাদেশে এটা অত্যন্ত জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। মানুষ প্রধানত ব্যাক্তিগত কাজে ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করে। যেমন: মির্জাপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ব্যাক্তিগত নাম দিয়ে একাউন্ট খোলা হয়েছে- Ufpo Shahidul Mirzapur. আবার ফেসবুক পেইজ প্রাতিষ্ঠানিক কাজেও ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। মির্জাপুর উপজেলায় ফেসবুক পেইজ রয়েছে। পেইজটির নাম: উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, মির্জাপুর, টাংগাইল। লিংকটি হল: https://www.facebook.com/ufpomirzapurtangail/। পেইজটির মাধ্যমে  পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য  সম্পর্কিত বিভিন্ন  অডিও-ভিজুয়াল তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনসাধারণ উপকৃত হচ্ছে।  এছাড়া, সামাজিক গ্রুপ তৈরী করতে ফেসবুক বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। মির্জাপুর উপজেলায় UFPO, MIRZAPUR, TANGAIL নামেও একটি গ্রুপ তৈরী করেছি। গ্রুপটির লিংক: https://www.facebook.com/groups/1739869956232084/। সকল এফপিআই, সকল এফডব্লিউএ, সকল এফডব্লিউভি, অধিকাংশ এসএসিএমও ও কিছু ফার্মাসিস্ট,  ‌উর্ধতন  কর্মকর্তা , উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধি. গণ্যমান্য ব্যাক্তি এর সদস্য। বর্তমানে গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা ৭০০ এর উপরে।

আমি নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করি। আমার ফেসবুক অধিকাংশ সময়েই খোলা থাকে। আমি প্রতিদিন ফেসবুকে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় প্রদান করি। গাড়ীতে কিংবা অবসর সময়ে ফেসবুক খুলি। সকল স্টাফের পোস্টে লাইক কিংবা কমেন্ট করে উৎসাহিত করি। তাতে স্টাফগণও এরূপ কার্যক্রমে উৎসাহ লাভ করেন। প্রথম পর্যায়ে সকল স্টাফের পোস্টের ধরন কিংবা মান ভাল ছিল না। এখন সকল স্টাফের পোস্টের মান অত্যন্ত চমৎকার। প্রথমদিকে স্টাফগণ একে অন্যের পোস্টে লাইক কিংবা কমেন্ট কম করতেন। সকলকে উৎসাহ প্রদান করার ফলে এখন অনেকেই একে অন্যের পোস্টে লাইক কিংবা কমেন্ট করছেন, যা কার্যক্রমের কোয়ালিটি নিশ্চিত করণে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

প্রশ্ন:     আপনি কি ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেই ফেসবুক ব্যবহার করছেন, নাকি দাপ্তরিক কাজেও ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন?

উত্তর: আমি ব্যাক্তিগতভাবেও ফেসবুক ব্যবহার করি। তবে পৃথক একাউন্ট রয়েছে। বর্তমানে দাপ্তরিক কাজে ফেসবুক ব্যবহারের ফলে ব্যাক্তিগত একাউন্টে খুবই কমই সময় দিতে পারি।

আমি অফিসের কোন চিঠিপত্র স্ক্যান করে কিংবা ছবি তুলে গ্রুপে পোস্ট করি। যার ফলে চিঠিপত্র ফটোকপি করার প্রয়োজন খুবই কম হয়। পত্রসমূহ দ্রুত সকলের নিকট পৌঁছে যায়। অফিস হতে ফোন করার প্রয়োজন খুবই কম হয়। এছাড়া মাসিক সভার তারিখ কিংবা লজিস্টিকস সাপ্লাইয়ের তারিখ গ্রুপে পোস্ট করে দেয়া হয়। অফিস সহকারীগণও এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করেন। ইএমআইএস সিস্টেমের কোন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কিংবা সেখানকার উপাত্ত যাচাই করে গ্রুপে আলোচনা করি। এর ফলে মাঠপর্যায়ে ভুলত্রুটি কম হয় এবং কাজে অগ্রগতি হয়। জাতীয় বা উপজেলা পর্যায়ের কোন নির্দেশনা সহজেই সকলের নিকট পৌঁছে দেয়া যায়।

প্রশ্ন:     আপনি কখন থেকে দাপ্তরিক কাজের জন্য ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেছেন (আনুমানিক সময়)? আপনি দাপ্তরিক কোন কোন কাজের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন? আমাদের কি দুয়েকটি বিস্তারিত উদাহরণ দিতে পারবেন?

উত্তর: দাপ্তরিক কাজে ২০১৪ সাল থেকে ফেসবুক ব্যবহার শুরু করি। আমি অফিসের কোন চিঠিপত্র স্ক্যান করে কিংবা ছবি তুলে গ্রুপে পোস্ট করি। যার ফলে চিঠিপত্র ফটোকপি করার প্রয়োজন খুবই কম হয়। পত্রসমূহ দ্রুত সকলের নিকট পৌঁছে যায়। অফিস হতে ফোন করার প্রয়োজন খুবই কম হয়। এছাড়া মাসিক সভার তারিখ কিংবা লজিস্টিকস সাপ্লাইয়ের তারিখ গ্রুপে পোস্ট করে দেয়া হয়। অফিস সহকারীগণও এ বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করেন। ইএমআইএস সিস্টেমের কোন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা কিংবা সেখানকার উপাত্ত যাচাই করে গ্রুপে আলোচনা করি। এর ফলে মাঠপর্যায়ে ভুলত্রুটি কম হয় এবং কাজে অগ্রগতি হয়। জাতীয় বা উপজেলা পর্যায়ের কোন নির্দেশনা সহজেই সকলের নিকট পৌঁছে দেয়া যায়। যেমন, মির্জাপুর উপজেলায় একসাথে তালগাছ রোপণ কর্মসূচিতে আমাদের সকল স্টাফ অংশগ্রহণ করে গ্রুপে ছবিসহ পোস্ট প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় এর বেশ প্রশংসাও করেছেন।

প্রশ্ন:     এই এ্যাপগুলোর প্রসারের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করেছেন কি? করলে কিভাবে করেছেন?

উত্তর: এ্যাপগুলো প্রসারের জন্য প্রতিনিয়ত ফেসবুক ব্যবহার করছি। মির্জাপুর অফিসিয়াল গ্রুপে আইসিডিডিআর,বি-এর কর্মকর্তাবৃন্দকে যুক্ত করেছি। তারাও নিয়মিত ফিডব্যাক দিচ্ছেন। আইসিডিডিআর,বি প্রদত্ত লিংক ব্যবহার করে ওয়েব হতে গর্ভবতীর তালিকা বের করে স্ক্রিন শট নিয়ে পোস্ট দিয়ে ইউনিয়ন ভিত্তিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট কোন এলাকার পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহীতার তথ্য পোস্ট দিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টাফকে কার্যক্রমে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেছি। এ্যাপে নতুন কোন আপডেট প্রদান করার সময়ে মেসেজ প্রদান করা হলে সকল স্টাফ নিজ নিজ এ্যাপ আপডেট করে নিচ্ছেন। এছাড়া দাপ্তরিক একাউন্টে এবং পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন বাংলাদেশ গ্রুপে এ্যাপগুলো নিয়ে লেখা হয়েছে। মাসিক সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে এর গুরুত্ব প্রদর্শন করা হয়।

প্রশ্ন: আপনার সহকর্মীদের মধ্যে কারা দাপ্তরিক কাজে ফেসবুক ব্যবহার করে তা কি আপনি জানেন? একটু বিস্তারিত জানাবেন কি?

উত্তর: হ্যাঁ জানি। ফেসবুক গ্রুপে এ সংক্রান্ত সকল তথ্য রয়েছে। দাপ্তরিক কাজে এমওএমসিএইচ-এফপি, অফিস সহকারী (সকল), এফপিআই (সকল), এফডব্লিউভি (সকল), এফডব্লিউএ (৯৮%), এসএসিএমও (৯০%) এবং ফার্মাসিস্ট (২০%) ফেসবুক কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন। মাঠ কিংবা ক্লিনিক পর্যায়ের দৈনিক কার্যক্রমসমূহ পোস্টের মাধ্যমে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করছেন।

প্রশ্ন:     আপনার সহকর্মীদের মধ্যে যারা ফেসবুক ব্যবহার করে না, তাদের সংখ্যা কেমন? আপনি কি তাদের ফেসবুক ব্যবহারে তাগিদ দিয়েছেন? দিয়ে থাকলে কি ফলাফল হয়েছে? তারা কি ফেসবুক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন!

উত্তর: ‍মির্জাপুর উপজেলায় ফেসবুক অব্যবহারকারীর সংখ্যা খুবই কম। তাদেরকে প্রতিনিয়ত ফেসবুক ব্যবহারে উৎসাহিত করি। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ট্রেনিংয়ে প্রেরণসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার প্রদান করি। যারা ব্যবহার করছেন না বা করতে পারেন না তারা অন্যের সহযোগিতায় ফেসবুক ব্যবহার করেন বলে জানান। তবে এসএসসিএমওগণকেও ট্যাব প্রদান করা হলে অবশিষ্ট দুইজনও ফেসবুকের আওতায় আসবেন বলে জানান। দুই একজন এফডব্লিউএ রয়েছেন যাদের নিয়ে একটু সমস্যা রয়েছে। যদিও এদের চাকুরী আর বেশিদিন নেই। ফার্মাসিস্টগণের এ বিষয়ক তেমন কোন কাজ নেই। তাদের কেউ কেউ পরোক্ষভাবে ফেসবুক ব্যবহার করছেন।

প্রশ্ন:     ফেসবুক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন কি?

উত্তর: প্রথমে পর্যায়ে পদ্ধতি গ্রহণকারীর গোপনীয়তা ভঙ্গ হয় এমন এবং সামান্য অশালীন দুইএকটি পোস্ট প্রদান করা হয়েছে। গোপনীয়তা ভঙ্গগ হয় কিংবা কোন পোস্ট কিছুটা অশালীন মনে হলে গ্রুপ এডমিন হিসেবে ডিলিট করে দেই। এ বিষয়ে উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, টাংগাইল মহোদয়ও পরামর্শ প্রদান করে সহযোগিতা প্রদান করেন।