ইএমআইএস- ব্যবহারকারীরা কি বলছেন?- ৪

ইএমআইএস- ব্যবহারকারীরা কি বলছেন?- ৪

ব্যবহারকারীরা কি বলছেন?- এ সিরিজে ১১ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বক্তব্য অনুসরণ করে পূর্ববর্তী কয়েকটি কিস্তি  প্রকাশ করা হয়েছে। মোঃ মোমেন গণী, স্বাস্থ্য সহকারী, তরফপুর-২,মির্জাপুর, টাংগাইল এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ইউটিউবে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আমরা এখানে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরার বদলে আমাদের কাছে থাকা তাঁর একটি কবিতা প্রকাশ করলাম। এটি তিনি প্রকাশ করেছিলেন ফেসবুকে। তিনি ছন্দোবদ্ধভাবে যে কথাগুলো বলেছেন, তাতে একজন ব্যবহারকারীর সমস্ত বক্তব্য সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কি নেই তাতে, খাতার বদলে ই-রেজিস্টার কেন ভাল! জীবন ভর কলম-খাতার উপর নির্ভর করলেও ডিজিটাল যুগে সকল কর্মীর ট্যাব কেন নেয়া উচিত। সুপারভাইজররা আগে রিপোর্ট আনার স্বাস্থ্য সহকারীর কাছে যেতেন, তাকে না পেলে ফেরত আসতেন। আর এখন ঝড় বৃষ্টির মধ্যেও তারা ঘরে বসে রিপোর্ট পাচ্ছেন, দেখতে পারছেন। বছর শেষে রেজিস্টারের পাতা ফুরিয়ে যেত, তাতে তাদের সমস্যার অন্ত থাকতো না। টালি জমা দেয়ার জন্য কঠিন চাপের মধ্যে থাকতে হতো। ইপিআই টেকনিশিয়ান টালির জন্য তাদের ব্যতিব্যস্ত করে রাখতেন। পোর্টার ম্যানরা বসে থাকতো রিপোর্ট শেষ করে জমা দেয়ার জন্য। এখন ট্যাব থাকাতে সব কাজ সহজ হয়ে গেছে। জনসংখ্যা নিবন্ধনের ফলে গর্ভবতী মা ও শিশুর তথ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। প্রশিক্ষণে ইপিআই-এর ধারণাও অনেক পরিষ্কার হয়েছে। এর ফলে সঠিকভাবে টিকা দেয়ার ব্যাপারে তাঁদের প্রত্যয়ও তিনি ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পের ফিল্ড সুপারভাইজরদের কাছ থেকে কিরূপ সহায়তা তারা পাচ্ছেন। তিনি আরও লিখেছেন, আইসিডিডিআরবি-র এক ঝাঁক তরুণ লিডার ডিজিটাল তথ্য দিয়ে তাদের জীবন গড়ে দিয়েছেন। তিনি কবিতাটি শেষ করেছেন সকল স্বাস্থ্য কর্মী ও সুপারভাইজরদের ট্যাব নিয়ে কাজ করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে। আমরা কবিতাটা নিচে উদ্ধৃত করলাম:

ডিজিটালের স্বপ্ন

” ই রেজিস্টার” প্রশিক্ষণে এসেছিলাম যারা,
মির্জাপুরের ১৩টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কর্মী তারা।

মির্জাপুরে আছেন যত স্বাস্থ্য সহকারী,
” ই রেজিস্টার” ট্রেনিংটা খুব ছিল দরকারী।

সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্যার ম্যাডামদের বলি,
খাতার ব্যাগ রেখে চলুন ট্যাব নিয়ে চলি।

স্বাস্থ্য পরিদর্শক স্যার রয়েছেন যত,
ডিজিটাল যুগে বলুন কষ্ট করবেন কত?

কলম – খাতায় লিখে লিখে জীবন করলেন পার।
ট্যাবলেট হাতে আছে চিন্তা নেই আর।

মাসের শেষে রিপোর্ট নিতে গিয়েছেন অনেক দূরে,
কর্মীকে না পেলে তখন আসতে হতো ঘুরে।

ঘরে বসে রিপোর্ট পাবেন ঝড় বৃষ্টির মাঝে,
মনোযোগ দিলে সবাই স্বাস্থ্য কর্মীর কাজে।

অগ্রিম কর্মসূচি ফটোকপি করতে
বিদ্যুৎ চলে গেলে বিপদে হতো পড়তে।

স্বাস্থ্য কর্মী ভাই বোনেরা খাতার ব্যাগ নিয়ে,
অনেক কষ্টে টিকা দিতেন টিকা কেন্দ্রে গিয়ে।

ঝড় বৃষ্টি হয়ে গেলে মানতো না আর ছাতা,
বাড়ী ফিরে এসে দেখি ভিজে গেছে খাতা।

বছর শেষে গিয়ে দেখি কয়েক পাতা নাই,
মাথায় হাত দিয়ে বলি এখন কোথায় পাই।

অনেক কথা শুনতে হতো টালি লেখার জন্য,
হাতে একটা ট্যাব পেয়ে জীবন হলো ধন্য।

বছর জুড়ে টালি খাতা শুধু বলে নেই,
কার্বন টালি ছাড়া কেমনে রিপোর্ট দেই।

টালির জন্য ই,পি,আই টেকনিশিয়ানের হতো অনেক কষ্ট,
মাস শেষে টালি না পেলে মাথা হতো নষ্ট।

পোর্টার ম্যানরা টালির জন্য থাকতো অনেক বসে,
একটু সময় বসেন ভাইরে হিসাবটা দেই কষে।

মাসের শেষে রিপোর্ট নিয়ে মাথা হতো ভার,
হাতের কাছে ট্যাব রয়েছে চিন্তা কিসের আর?

PRS এর সফলতা এসে গেছে আজ
অনেক কিছুই সহজ হবে ট্যাবে করলে কাজ।

গর্ভবতী মা ও শিশুর সেবা দিবার তরে,
স্বাস্থ্য কর্মী ই রেজিস্টার ট্রেনিং গেলেন করে।

কিশোরী/মহিলাদের রেজিস্ট্রেশন ও টিকাদান তথ্য,
এই ট্রেনিংয়ের পরে দেখবেন হবে সবই সত্য

ই,পি,আই এর অনেক কিছু শিখলাম ট্রেনিং শেষে,
সঠিক টিকা দিয়ে মোরা ফিরবো বাড়ী হেসে।

সর্ব সময় মোদের পাশে আছেন রাজু ভাই,
সমস্যা হয়ে গেলে কোন চিন্তা নাই।

Icddr,b এর একঝাক তরুণ লিডার মোদের যত্ন করে,
অজানা সব ডিজিটাল তথ্য দিয়ে জীবন দিলেন গড়ে।

আসুন আমরা সবাই মিলে ট্যাব নিয়ে কাজ করি
By |2018-12-03T04:45:49-06:00 Published on November 08, 2017| Updated on December 03, 2018|eMIS Users|0 Comments

Leave A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.